শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ ভয় নাই ওরে ভয় নাই/ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই’। এই অমর বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে যারা নিঃশেষে প্রাণ দিয়েছিলেন স্বাধীনতার জন্য, তাঁদের স্মৃতি আজ গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি। আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের ঊষালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ মেধাবী বুদ্ধিজীবীদের।
যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালিত হচ্ছে। সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানান। স্মৃতিসৌধে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন তাঁরা। সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে বাজে করুণ সুর।
সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানান। স্মৃতিসৌধে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন তাঁরা। সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে বাজে করুণ সুর। পরে স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেন, সব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবিচল সাহস ও দৃঢ় অবস্থান দেশের ইতিহাসে অনন্য ও চিরস্মরণীয়। তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপকার। তাঁদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে হানাদাররা পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র করে। ১০-১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় শত শত বুদ্ধিজীবীকে। মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার হয়। অনেকের হাত-পা পিছমোড়া বাঁধা, চোখ বাঁধা, শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন। এ হত্যাকাণ্ড শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে ছিল।
এই নৃশংসতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় পাকিস্তানি বাহিনীর গভীর ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও যাতে বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সেই চক্রান্ত ছিল এর পেছনে। কিন্তু শহীদদের আত্মত্যাগ ব্যর্থ করতে পারেনি ঘাতকদের। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আজ জাতির গর্ব।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। জেলা-উপজেলায় নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। জাতি আজ শপথ নেবে—শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।





