সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সুদানের বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনআইএসএফএ) একটি ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নৃশংস ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন বীর শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে কাদুগলি লজিস্টিক বেসে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, এলাকায় এখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ চলমান।
হামলায় ড্রোন থেকে ছোড়া তিনটি মিসাইল জাতিসংঘের স্টোরেজ সুবিধায় আঘাত হানে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। সুদান সরকার এ হামলার জন্য র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামের আধাসামরিক গোষ্ঠীকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই “ভয়াবহ” হামলার নিন্দা করে বলেছেন, এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। তিনি শহীদদের পরিবার, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই বীর শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অপরিসীম গর্বের, কিন্তু গভীর বেদনারও।” তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কা
মনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের প্রতি জরুরি অনুরোধ জানানো হয়েছে। শহীদদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোর পাশে সরকার দাঁড়াবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের কথা বলেছে।
আবেই সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে তেলসমৃদ্ধ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা। ২০০৫ সালের শান্তি চুক্তির পর এখানে গণভোট হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তা হয়নি। ফলে জমি, চারণভূমি ও তেল নিয়ে প্রায়ই সংঘাত লেগে থাকে। জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে এখানে ইউএনআইএসএফএ মিশন পরিচালনা করছে, যাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় সেনা প্রেরক দেশ। বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত দেশে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। গত মাসেই ইউএনআইএসএফএর মেয়াদ এক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
আইএসপিআর রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ ৬ শান্তিরক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন— (নামসমূহ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে। জাতি আজ এই বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে।





