শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা। আগামীকালের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আজ (১২ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রফেসর ইউনূস তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধকালীন সরকারকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে জাতিকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতেও তাঁদের ছিল অসামান্য ভূমিকা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দুঃখজনক ও কলঙ্কময় দিন।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিনগুলোতে, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে যায়, তখন তারা এবং তাদের এদেশীয় দোসররা (যেমন আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী) বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার এক সুদূরপ্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশকে দুর্বল করে একটি ব্যর্থ জাতিতে পরিণত করাই ছিল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মূল উদ্দেশ্য।
তিনি শোকাবহ এ দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের বিদেহ আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন।
হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, শিল্পী, প্রকৌশলী, দার্শনিক, রাজনৈতিক ও চিন্তাবিদসহ অসংখ্য মেধাবী ব্যক্তিকে নির্মমভাবে গুম ও হত্যা করে।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমগ্র জাতিকে সাথে নিয়ে তেমনই একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছে। এর সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আমৃত্যু লালিত স্বপ্নের পূর্ণতা মিলবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সবাইকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলি উন্নত, সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ।’





