ইমরান খানের জীবিত থাকার প্রমাণ চাইলেন ছেলে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের ‘মৃত্যু’র গুজবের মধ্যে তার ছোট ছেলে কাসিম খান সরকারের কাছে ‘জীবিত’ থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন। ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি খানের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ বন্ধ করার পর থেকে এই গুজব ছড়াচ্ছে। কাসিম শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) এক্স পোস্টে জানান, “বাবা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে। গত দেড় মাসে ফাঁসির আসামিদের নির্জন কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরিবারকে দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।”
কাসিম অভিযোগ করেন, “আমাদেরকে বাবার অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বোনদেরও সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাবার নিরাপত্তা ও নির্জন কারাবাসের প্রতিটি পরিণতির দায় পাক সরকারকেই নিতে হবে।”
ইমরান খানের তিন বোন – নরীন খান, আলিমা খান ও উজমা খান অভিযোগ করেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বারবার দেখা করতে গেলেও ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে তারা ও সমর্থকরা কারাগারের সামনে মুক্তির দাবিতে জড়ো হয়ে পুলিশের হামলায় আহত হন। পিটিআই বলেছে, এতে ১০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ায় ইমরান খানের ‘মৃত্যু’র গুজব ছড়াতে থাকায় পুরো পাকিস্তান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আফগানিস্তানের একটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, তাকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। এই গুজবের বিরুদ্ধে পিটিআই নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে, যাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৯০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতি, ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ রয়েছে। পিটিআই দাবি করে, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ খানের কারাবাসকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে সমালোচনা করেছে এবং আঞ্চলিক নেতাদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
কাসিমের এই পোস্ট পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে নতুন ঝড় তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।





