‘তৃতীয় বিশ্ব’ থেকে অভিবাসন স্থগিতের হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসনকে স্থায়ীভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা এসেছে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের কাছে দুই আফগান নাগরিকের ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের গুলি করার অভিযোগের মাত্র একদিন পর।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তার মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল করার সুযোগ দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।” হুমকি দিয়ে তিনি যোগ করেন, পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে দেওয়া ‘লাখ লাখ’ অভিবাসন অনুমোদন বাতিল করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘প্রকৃত সম্পদ’ নয় বলে বিবেচিত যেকোনো বিদেশিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “‘জনসাধারণের অভিযোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পশ্চিমা সভ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে বিবেচিত যেকোনো বিদেশি নাগরিককে নির্বাসিত করা উচিত।” তবে তিনি ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে ঠিক কোন দেশগুলোকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে (১৯৪৫-১৯৯১) বিশ্ব দুই শক্তিশালী ব্লকে বিভক্ত ছিল – যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্লক (প্রথম বিশ্ব) এবং সোভিয়েতসমর্থিত কমিউনিস্ট ব্লক (দ্বিতীয় বিশ্ব)। এই দুই ব্লকের বাইরে অবস্থানকারী দেশগুলোকে ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলা হতো, যারা কোনো ব্লকের সঙ্গে যোগ দেয়নি। পরবর্তীকালে এই শব্দটি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র, উন্নয়নশীল বা কৃষিপ্রধান দেশগুলোকে (বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
আজকাল ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় না, কারণ এটি অপমানজনক বলে বিবেচিত। এর পরিবর্তে ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ’ বা ‘গ্লোবাল সাউথ’ বলা হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে, কারণ এটি ১৯৬৫-এর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের কাছে দুই আফগান নাগরিকের গুলি অভিযোগের পর ট্রাম্পের এই পোস্ট এসেছে। এই ঘটনায় দুই ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য আহত হয়েছেন এবং এটি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে ‘মাস্ক ইমিগ্রেশন’ রোধে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে, যার ফলে লক্ষাধিক অভিবাসীকে প্রভাবিত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘোষণাকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে এবং এটি আফগানিস্তানের মতো দেশের অভিবাসীদের জন্য বিপর্যয়কর হবে বলে সতর্ক করেছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার ২০২৪ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ, যা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।





