১১ দলীয় জোট জিতলে মন্ত্রী হচ্ছেন নাহিদ : বাড্ডায় জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের এক বিশাল জনসভায় তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে জোট জয়লাভ করলে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন। মূলত জুলাই বিপ্লবের অন্যতম কারিগর এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করতেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে নতুন সরকার
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “নাহিদ ইসলাম জুলাই বিপ্লবের সিপাহসালার। যে তরুণরা বুক পেতে দিয়ে স্বৈরাচার হটিয়ে নতুন স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছে, তাদের হাতেই থাকবে আগামীর বাংলাদেশ। ১১ দলীয় জোট যদি জনগণের রায়ে সরকার গঠন করে, তবে ঢাকা-১১ আসনের এই সাহসী সন্তানকে কেবল সংসদে নয়, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অর্থাৎ মন্ত্রিত্ব দিয়ে সম্মানিত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, গত তিন দশকে ঢাকা-১১ আসনটি (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা) দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। এই এলাকাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
মাঠের লড়াইয়ে নাহিদ ইসলাম
ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি নিজেও জনসভায় তার নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা—ভূমি দখল এবং খাল ভরাট উচ্ছেদ করে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ঢাকা-১১ উপহার দেবেন।
জনসভায় উপস্থিত অন্যান্য জোট নেতারাও নাহিদ ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা তরুণ এই নেতৃত্বকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
আগামীর রাজনীতির নতুন সংকেত
ডা. শফিকুর রহমানের এই ঘোষণা কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে তারুণ্যের হিস্যা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী সংকেত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দিয়ে জামায়াত এবং জোট শরিকরা কার্যত তরুণ ভোটারদের নিজেদের বলয়ে টানার চেষ্টা করছেন।
এখন দেখার বিষয়, ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে ঢাকা-১১ আসনের জনগণ এই ‘ভবিষ্যৎ মন্ত্রী’র পক্ষে কতটুকু রায় দেয়। যদি এই সমীকরণ সফল হয়, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তরুণ প্রজন্মের সরাসরি ক্ষমতায়নের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
১১ দলীয় জোট ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট:
-
আসন: ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকা নিয়ে গঠিত)।
-
প্রার্থী: নাহিদ ইসলাম, আহ্বায়ক, এনসিপি।
-
জোটের লক্ষ্য: দুর্নীতিমুক্ত শাসন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন।
-
ভোটার সংখ্যা: এই আসনে কয়েক লাখ ভোটারের ম্যান্ডেট পাওয়ার লড়াইয়ে জোট প্রার্থীরা এখন তুঙ্গে।
-
নিরাপত্তা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সাত দিনের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই এই বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হলো।





