ঢাকা হবে নিরাপদ শহর, ৪০টি খেলার মাঠের ঘোষণা তারেক রহমানের
রাজধানীর বুকে ইট-পাথরের জঞ্জাল সরিয়ে শিশুদের খেলার সুযোগ আর সবুজের ছোঁয়া ফেরাতে বড় এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় তিনি ঘোষণা করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ঢাকা-১৭ আসনের এই পথসভায় তারেক রহমান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ জুড়ে রাখেন নাগরিক সুবিধা ও তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং ঢাকাকে একটি ‘নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর’ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মাঠের প্রতিশ্রুতি:
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর খেলার মাঠগুলো দখল ও বাণিজ্যিক স্থাপনার কারণে বিলীন হয়ে গেছে। পথসভায় তারেক রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা এখন ইনডোর গেমে বন্দি। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যে খোলা জায়গা প্রয়োজন, তা বর্তমান ঢাকা শহরে নেই বললেই চলে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই ৪০টি মাঠ কেবল ফুটবল বা ক্রিকেটের জন্য নয়, বরং সেগুলোকে বহুমুখী ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে যেখানে নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদে বিচরণ করতে পারবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক স্বাস্থ্যের যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এই ঘোষণাকে তারই এক বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিরাপদ ঢাকা ও জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকার
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যে গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাসযোগ্য দেশের স্বপ্নে তরুণরা প্রাণ দিয়েছে, সেই স্বপ্ন পূরণ করাই বিএনপির অঙ্গীকার।”
এ সময় তিনি ঢাকাকে নিরাপদ শহর করার লক্ষে স্মার্ট সিসিটিভি নেটওয়ার্ক, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের উচিত হবে তাদের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার নির্বাচন করা।
ভোটের মাত্র চার দিন বাকি থাকতে তারেক রহমানের এই ‘খেলার মাঠ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নতুন করে ৪০টি মাঠ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি খুঁজে পাওয়া হবে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।





