মুজিবনগর নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের খবর মিথ্যা: ফারুক ই আজম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানিয়েছেন, শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুজিবনগর সরকারের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
উপদেষ্টা আরও জানান, ২০১৮ ও ২০২২ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় যে বিকৃতি ঢোকানো হয়েছিল, তা সংশোধন করে ১৯৭২ সালের মূল সংজ্ঞায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি কোনো স্বীকৃতি বাতিল নয়, বরং ঐতিহাসিক সত্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংও এক বিবৃতিতে মুজিবনগর সরকারের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিলের খবরকে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর” বলে উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, শেখ মুজিবসহ মুজিবনগর সরকারের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ‘সমকাল, যুগান্তর, ইত্তেফাক ও কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয় মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং দুই মন্ত্রী মো. মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানসহ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হয়েছে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, মুজিবনগর সরকারে যারা ছিলেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। যারা সশস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, যারা পরিচালনা করেছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা। তবে ওই সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা।
ফারুক ই আজম বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ কূটনীতিকরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা। সহযোগী মানে এই নয় যে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা ছিল সেটাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালে এটা পরিবর্তন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দুইয়েরই সম্মান, মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা একই থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী-সবার মর্যাদা রয়েছে বলেও তিনি জানান।





