জাতীয় ফিচার

মিলারদের হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর

মিলারদের হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর

অতি মুনাফা করতে গিয়ে দেশের কৃষক ও ভোক্তাদেরকে কষ্ট দিলে সরকার আরো কঠোর হবে এবং সরকারের চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না বলে মিল মালিকদের হুঁশিয়ার করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ অটো মেজর এ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

এসময় ধান কিনে চাল উৎপাদন ও বিক্রিতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মিলাররা কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে না, অপরদিকে মিলারদের নাম ভাঙ্গিয়ে খুচরা বিক্রেতারাও অতি মুনাফা করছে বলেই চালের বাজার অস্থির বলে অভিযোগ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।

মিলারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তারা যদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় তাহলে সরকার আরও কঠোর হবে।

সংগঠনের সভাপতি মো: আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু,খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ইসমাইল হোসেন ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সাখাওয়াত হোসেন।

সভায় আমন মৌসুমে সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারকে চাল সরবরাহে মিলারদের তাগিদ দেয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ দুই মাসের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এদিকে, সরকারিভাবে চাল ক্রয়ে দাম কমের কারনে মিলাররা মারাত্মক লোকসানের মুখে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। গত বোরো মৌসুমের মতো বর্তমানে মাঠে থাকা আমনের ফলনও ভালো বলে মনে করছে। বর্তমানে সরকারি খাদ্য গুদামে মজুত পরিস্থিতিও পর্যাপ্ত।

কিন্তু এত ইতিবাচক পরিস্থিতির পরও মারাত্মক অস্থির চালের বাজার। কয়েক দফা দাম বৃদ্ধির পর, বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও চাল নিয়ে এখনও ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে, মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরো বাজার, সব পর্যায়েই চলছে অস্থিরতা।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিয়ে সারাদেশের মিল মালিকরা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল সরবরাহে লোকসানের মুখে তারা। তারা বলেন সরকার চাল ক্রয় কেজিপ্রতি ৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে এটি আরো দুই টাকা বাড়িয়ে ৪২ টাকা করা দরকার ছিল। বাজার অস্থিরতার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করে আরো মুনাফার দাবি জানালেন তারা।

সভায় চালের বাজার অস্থির করতে মিলার থেকে খুচরা ব্যবসায়ী সবাইকে দায়ী করে অতি মুনাফা রোধে শিগগিরই আইন করার কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান আইন অনুসারে কোন জাতের চাল, কি পরিমান, কবে উৎপাদন, ইত্যাদি বস্তার গায়ে লেখা থাকতে হবে।

এসময়, সরকার ও মিল মালিকেরা পরিপূরক, প্রতিপক্ষ নয় বলে মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মিল মালিকেরা কখন, কোথায় এবং কতটুকু চাল বিক্রি করেন তারা ছাড়া কেউ জানেনা। খুচরা বিক্রেতারা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সোজা আঙ্গুল তুলে মিল মালিকদের দিকে। তখন মিল মালিকরা চুপ করে থাকেন, কোন প্রতিবাদ করেন না। এর ফলে সবার মধ্যে ধারনা কাজ করে যে মিল মালিকরা দাম বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে মিলগেটে বিক্রিত চালের দাম নির্ধারিত থাকলে খুচরা বিক্রেতা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে চালের দাম বেশি নিতে পারবে না।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “চুক্তি করেও যারা সরকারি গুদামে চাল সরবারহ করতে পারেনি তারা যদি যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেন তাহলে বিবেচনা করা হবে। তবে চাল প্রকিউরমেন্টে সরকারকে সহায়তাকারী আর অসহায়তাকারী মিল মালিককে সমানভাবে পরিমাপ করা হবেনা।”

উল্লেখ্য, সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে ধান, চাল ও গম মিলিয়ে খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে ১৯ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। যারমধ্যে চাল ১৭ লাখ ৪৪ হাজার টন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আরো আমদানির কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী।

রিপোর্টার

About Author

1 Comment

  1. দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেড়েছে সোনার দাম - ta

    September 10, 2022

    […] আরও পড়ুনঃ মিলারদের হুঁশিয়&… […]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র