নির্বাচনি দায়িত্বে নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনগতভাবে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়বেন না—এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ অবস্থান জানান। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ব্রিফিংয়ে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জোর দিয়ে বলেন, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ যারা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত থাকবেন, তাদের কাজ হবে শুধু আইন অনুসরণ করা। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “রিটার্নিং অফিসার যখন দায়িত্ব পান, তখন থেকেই তিনি কোনো পক্ষের লোক নন। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।”
এই ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। কমিশনার জানান, প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা গেছে। প্রচারণা চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু আশঙ্কা থাকতে পারে বলে স্বীকার করলেও তিনি আশাবাদী যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে।
প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালটের গণনা একসঙ্গে করা হবে, যদিও পোস্টাল ব্যালটের গণনায় বেশি সময় লাগতে পারে। প্রতিটি ব্যালটে ১১৯টি প্রতীক থাকায় প্রবাসী ভোটারদের জন্য এজেন্টদের প্রতীক চিহ্নিত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ নির্বাচনের মাঠে এখন প্রচারণার তীব্রতা বেড়েছে। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে লিপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে কমিশনের নিরপেক্ষতার ঘোষণা জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনার আরও বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





