নতুন সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের স্থবিরতা কাটবে
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেকটা ‘থমকে’ আছে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এই স্থবিরতা কাটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গতিশীল ও মসৃণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর নীরবতা বিরাজ করছে। কূটনৈতিক ভাষায় যাকে ‘কোল্ড পিস’ বা শীতল শান্তি বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা তেমনই। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, আগে যে গতিতে দুই দেশের মধ্যে নথিপত্র বা উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ চলত, তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে তিনি একে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়’ হিসেবে দেখছেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “সম্পর্কটা বর্তমানে যে অবস্থানে আছে, তাকে খুব সচল বলা যাবে না। কিছুটা থমকে আছে, এটা সত্য। তবে দুই দেশের স্বার্থেই এই জড়তা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, নতুন সরকারের এই সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং সমান মর্যাদার ভিত্তিতে মসৃণ হবে।”
উপদেষ্টার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বাংলাদেশ এখন দিল্লির সঙ্গে কেবল প্রথাগত সৌজন্য নয়, বরং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে জোরালো আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানি বণ্টন চুক্তি এবং ভিসা প্রক্রিয়ার সহজীকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এখন নতুন করে টেবিলের সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতও বাংলাদেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং দুই পক্ষই এখন সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “প্রতিবেশী বদলানো যায় না। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে কীভাবে উন্নয়ন সহযোগী হওয়া যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”





