‘জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকায় উদ্ভূত অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকার শিগগিরই নিজস্ব সিদ্ধান্ত জানাবে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল, যা আজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দলগুলো এখনো আলোচনায় বসে সমাধানে পৌঁছায়নি। ফলে সরকার এখন অভ্যন্তরীণভাবে বৈঠক করে যা ভালো মনে করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা আরও বলেন, “সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, কিন্তু যেগুলোতে হয়নি, সেগুলো নিয়ে তারা নিজেরা বসে সমাধান করবে বলে আশা করা হয়েছিল। যেহেতু সাত দিন পার হয়ে গেছে, সরকার এখন বসবে এবং সামষ্টিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি জানান, সরকার একটা সম্ভাব্য সমাধান মাথায় রেখে সবার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে এবং তা শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত এবং ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোও সনদ ও গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। য
দি গণভোটে সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় আসে, তাহলে সংস্কারগুলো কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে গণভোট কখন হবে—নির্বাচনের দিন নাকি আগে—এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি রয়েছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা যাচ্ছে।
সরকার কি সিদ্ধান্ত আরোপ করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “কেউ তো বলেনি যে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। যদি শুনতাম সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, তারপরও যদি নিতাম তাহলে বলা যেত আরোপ করছি। সরকারের দায়িত্ব আছে, অচলাবস্থা কাটাতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা খুব বেশি সময় নেব না, নিজেদের মধ্যে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।”
সরকারের সিদ্ধান্ত যদি রাজনৈতিক দলগুলো না মানে—এমন প্রশ্নে রিজওয়ানা বলেন, “‘যদি’ দিয়ে প্রশ্ন করবেন না। সরকার সিদ্ধান্ত নিক আগে। কেউ তো বলেনি সরকারের সিদ্ধান্ত মানব না। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করতে দিতে হবে।”
তিনি যোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সরকার যা ভালো মনে করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর রাজনৈতিক মতভেদ মেটাতে অন্তর্বর্তী সরকার আর কোনো মধ্যস্থতা করবে না। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন গতি আনতে পারে।





