‘ইসির গেজেট বাতিল; বাগেরহাটে আসন থাকবে চারটিই’
বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ফলে জেলার আসন সংখ্যা আগের মতো চারটিই বহাল থাকবে।
এই রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, ভোটার সংখ্যার সমতা আনার নামে ভৌগোলিক সংলগ্নতা, প্রশাসনিক সুবিধা, বিদ্যমান নির্বাচনী কাঠামো এবং বিস্তৃত আলোচনা উপেক্ষা করে ইসি একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ইসিকে সংশোধিত গেজেট জারি করে পুরনো কাঠামো বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩৯টির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে ইসি। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনার লক্ষ্যে গাজীপুর জেলায় আসন একটি বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়, আর বাগেরহাটে চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়।
আগে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল: বাগেরহাট-১ (মোল্লাহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা), বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা)। নতুন প্রস্তাবে বাগেরহাট-১ অপরিবর্তিত রাখা হয়, বাগেরহাট-২-এ সদর, কচুয়া ও রামপাল যুক্ত করা হয়, আর বাগেরহাট-৩-এ মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে নতুন আসন গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এই পরিবর্তনের ফলে বাগেরহাটে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। গত ৩১ জুলাই স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন নামের একটি সংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন জানিয়ে আসন কমানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। তারা যুক্তি দেখায়, শুধু ভোটার সংখ্যা বিবেচনা করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়েছে।
একই সঙ্গে বাগেরহাট-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনির (বিএনপির অঙ্গ সংগঠন তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসি ভবনে গিয়ে সিইসির কাছে আপত্তি জানান। এই আবেদনগুলোর ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই রায়ে পরিণত হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, ইসির প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ও মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। এতে নির্বাচনী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাসিন্দারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন, তারা মনে করেন আসন কমানোর প্রস্তাবটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রশাসনিকভাবে অসুবিধাজনক ছিল।
ইসি এখনও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এই রায় আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ইসির উপর চাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





