‘গোপালগঞ্জে জীবন বাঁচাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সেনাবাহিনী, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি’
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির পথসভায় উত্তেজনা ও জীবননাশের হুমকির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে, তবে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনা সদরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের (স্টাফ কর্নেল) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে পথসভায় হট্টগোলের সময় অনেকের জীবননাশের হুমকি ছিল। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করেছে। তবে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে বিবেচনা করিনি। আমাদের চোখে সবাই সমান।”
ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কর্নেল শফিকুল আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বাহিনীকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। আমরা তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।”
তিনি জানান, গত চার সপ্তাহে ৩৭টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১২,১১৯টি হারানো অস্ত্রের মধ্যে ৯,৭২৯টি উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬,৪৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার বা নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় সেনা মোতায়েন নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। তবে সরকারের নির্দেশ পেলে আমরা পরিকল্পনা করব।”
তিনি আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
এছাড়া, রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সেনাবাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





