গোপালগঞ্জে এনসিপি’র ওপর হামলা: গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিএনপি’র
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে যে, পতিত শেখ হাসিনার সমর্থকরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধ্বংস করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপি’র এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও দুর্বৃত্তদের হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি জানায়, গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সমাবেশে হামলার ঘটনা ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই দলের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পিত প্রয়াস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার সমর্থকরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করতে এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।” এই ঘটনার পর সরকারকে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছে, যা বিএনপি’র মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার একটি নীলনকশা।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির ধারণা, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ রুদ্ধ করতে চায়। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রতিশ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং এর গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা। মির্জা ফখরুল বলেন, “এই হামলা কেবল এনসিপি’র উপর নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উপর আঘাত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
গোপালগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই হামলা আমাদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করছে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হোক।” এনসিপি’র একজন স্থানীয় নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। আমরা এর বিচার চাই।”





