‘কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর করা হবে’: কিশোরগঞ্জে জামায়াত আমির
কিশোরগঞ্জ জেলাকে আর কেবল কৃষিনির্ভরতার গণ্ডিতে আটকে না রেখে আধুনিক কৃষি-শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কৃষিপণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে জেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১-দলীয় জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান কিশোরগঞ্জের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ কোনো খনিজ সম্পদ বা শিল্প সমৃদ্ধ জেলা নয়, এটি একটি খাঁটি কৃষিনির্ভর জনপদ। কিন্তু কৃষকরা তাদের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আমরা কৃষিকে শিল্পে পরিণত করব, যাতে কৃষক তার ফসলের সঠিক দাম পায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।”
কৃষি থেকে শিল্পে রূপান্তরের রূপরেখা
জনসভায় জামায়াত আমির কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য দলীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র ধান বা সবজি উৎপাদন করলেই হবে না, সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করার শিল্পকারখানা এখানে থাকতে হবে। কিশোরগঞ্জের হাওর এবং চরাঞ্চলের কৃষিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাজানো হবে।”
-
কিশোরগঞ্জের প্রেক্ষাপট: জেলাটি মূলত ভৈরব কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং হাওর অঞ্চলের মৎস্য ও ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। ডা. শফিকুরের পরিকল্পনা হলো এই বিচ্ছিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনা।
-
জবাবদিহিতার রাজনীতি: তিনি অতীতের রাজনীতিকে সমালোচনা করে বলেন, মানুষ এখন ‘অতীতের কাসুন্দি’ আর শুনতে চায় না। মানুষ চায় পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে কটিয়াদীর এই জনসভাটি জামায়াতের জন্য শক্তি প্রদর্শনের এক বড় ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত কিশোরগঞ্জকে তাদের কৃষি-ভিত্তিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছে কারণ জেলার একটি বড় ভোটার গোষ্ঠী সরাসরি কৃষির সাথে জড়িত। এই প্রতিশ্রুতি স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে কতটা ইতিবাচক সাড়া ফেলে, তার প্রতিফলন দেখা যাবে ব্যালট বাক্সে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নাকি কোনো সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কিশোরগঞ্জের মতো জনপদে ‘কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর’ করার স্বপ্নটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে স্থানীয়দের। এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা এই নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের ওপর আস্থা রাখেন কি না।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য দিক:
-
কৃষি ভিত্তিক শিল্পায়ন: খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন ও কৃষিপণ্যের রফতানি নিশ্চিত করা।
-
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ: চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
-
ঐক্যবদ্ধ জোট: ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান।
-
সুশাসন: জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি।





