‘নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তে আবারও বিপদের শঙ্কা’
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াই ও ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “এই নির্বাচনে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা আবারও চরম বিপদের মুখে পড়ব।”
আজ দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল। হাজার হাজার নেতা-কর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন ছাত্র-জনতা। এই বিশাল ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নির্বাচনের সুযোগকে কোনোভাবেই হেলাফেলা করার অবকাশ নেই।
মির্জা ফখরুলের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তিনি বলেন, “যদি আমরা ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারি, তবেই আগামী পাঁচটি বছর বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। অন্যথায়, দেশ পুনরায় অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে।”
প্রতিশ্রুতি ও আগামীর রোডম্যাপ
বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব কেবল রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং ক্ষমতায় গেলে জনকল্যাণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তারও একটি ধারণা দেন। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
“আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবে। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সেখানে থাকবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য মূলত সাধারণ ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং দায়িত্ববোধকে নাড়া দেওয়ার একটি কৌশল। বিগত বছরগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বিএনপি মহাসচিব বারবার ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ও ‘বিপদ’ শব্দগুলো ব্যবহার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতার পালাবদল সুষ্ঠু না হলে দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন আবারও ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে। বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো মৌলিক ইস্যুগুলোই এবার জনমতের প্রধান নিয়ামক হতে যাচ্ছে।





