ওসমান হাদি হত্যা: যুবলীগ কর্মী হিমন গ্রেফতার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী হিমনকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবর এলাকার রাজ্জাক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে হিমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে আদাবরের ১৭/বি এলাকার মেহেদীর বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিমনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। প্রায় দুই মাস আগে তিনি দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ এখনো পলাতক। তার দেশত্যাগের খবর নিয়েও তদন্ত চলছে। ডিবি পুলিশের একাধিক টিম তার অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। ২০ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারকে তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, হিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামিদের গ্রেফতারে নতুন সূত্র পাওয়া গেছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





