আসন্ন নির্বাচনে পুলিশকে ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ পালনের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে “শত বছরের জন্য বাংলাদেশের বিল্ডিং কোড” স্থাপনের সুযোগ উল্লেখ করে পুলিশের ৬৪ জেলার এসপি ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “ভূমিকম্প এলে আমরা বলি বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কি না। এই নির্বাচনই আমাদের সমাজের সেই বিল্ডিং কোড। যত বড় ঝাঁকুনিই আসুক, যেন নড়তে না পারে— এমন একটি কোড আমরা এবার তৈরি করব। আপনাদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকুন। জীবনের শেষে যখন ভাববেন কী করেছি, তখন প্রথম কথা হবে— আমরা এই বিল্ডিং কোড তৈরিতে অংশ নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের নয়, এটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছে, তাদের স্বপ্ন পূরণের নির্বাচন। আমরা সবাই ধাত্রীর মতো— একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিতে সাহায্য করব।”
প্রফেসর ইউনূস জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এসপিদের পদায়ন দৈবচয়নের (র্যান্ডমাইজেশন) মাধ্যমে করা হয়েছে। “দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এটি সহজভাবে নিন,” বলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ত্রুটি খুঁজতে আসবে। কিন্তু আমরা তাদের এমন একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেব, যা তারা বহন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদাহরণ হিসেবে দেখাবে।”
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির একাংশ পড়তে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। পুরো হলরুম নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে।
সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “পুলিশ এবার জনগণের পুলিশ হিসেবে কাজ করবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না।” তিনি সেরা পারফরম্যান্সের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী।
প্রফেসর ইউনূস শেষে বলেন, “প্রতিদিন ভাবুন— আজ আমার করণীয় কী? একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিদিন কাজ করুন। এটাই হবে আপনাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”





