শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও ৬৫-ঊর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য মেট্রো ও রেলে ২৫% ছাড়
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলসহ সব ধরনের রেলসেবায় ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সুবিধা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে ঈদুল আজহার আগেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘোষণা সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন ব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। যাতায়াত খরচ কমিয়ে এই গোষ্ঠীগুলোর জীবনযাত্রা সহজ করাই লক্ষ্য।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যারা দৈনন্দিন চলাচলে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, শিক্ষার্থীরা যারা বাজেটের মধ্যে পড়াশোনা চালান, এবং বয়স্ক নাগরিকরা যারা অবসর জীবনে স্বাধীনতা চান—সবার জন্য এই ছাড় একটি স্বস্তির বার্তা।
ছাড় পাওয়ার জন্য যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যথেষ্ট, কারণ টিকিট কেনার সময়ই এটি বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া প্রতিবন্ধী কার্ড প্রয়োজন হবে। অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমে বিশেষ অপশন যুক্ত করা হবে, যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় প্রয়োগ হয়। অনবোর্ডে বা স্টেশনে চেকিংয়ের সময়ও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই সুবিধা মেট্রোরেল এবং আন্তঃনগর ট্রেন উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই ছাড় কি প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে আজ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেলে বিশেষ সুবিধা রয়েছে, তাই ভবিষ্যতে সমন্বয় করা যেতে পারে।
এই ঘোষণার পটভূমিতে দেখা যায়, বাংলাদেশে পরিবহন খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য সুবিধা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে ছাড়ের মতো রেলেও এমন উদ্যোগ অনেকদিনের।
প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য যাতায়াত সহজ করা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ। এই ২৫% ছাড় যাত্রীদের মাসিক খরচ কমাবে, বিশেষ করে শহরের শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য।
কার্যকরীকরণে সময় লাগবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। টিকিটিং সিস্টেম আপডেট, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা ক্যাম্পেইনের প্রয়োজন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপশন যোগ করতে হবে। তবে মন্ত্রী আশাবাদী যে ঈদুল আজহার আগেই এটি চালু হবে।
এই সিদ্ধান্ত পরিবহনকে আরও সমতামূলক করে তুলবে। এটি শুধু অর্থ সাশ্রয় নয়, বরং সমাজের দুর্বল অংশকে মূলধারায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি।





