অর্থ-বাণিজ্য ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা: ঈদের পর কী চাঙ্গা হবে দেশের পুঁজিবাজার?

মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা: ঈদের পর কী চাঙ্গা হবে দেশের পুঁজিবাজার?

টানা দরপতন আর লেনদেনে স্থবিরতার বৃত্তে বন্দি দেশের পুঁজিবাজার এখন এক ক্রান্তিকাল পার করছে। সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থার ঘাটতি প্রকট হলেও, বাজার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন ঈদের পরবর্তী সময়ের দিকে। দীর্ঘ ছুটির পর নতুন তারল্য প্রবাহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় বাজার ফের ইতিবাচক ধারায় ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন অংশীজনরা।

ঈদের আগের বিক্রয়চাপ ও বর্তমান চিত্র

ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, ঈদের আগের দিনগুলোতে পুঁজিবাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ও উৎসবের খরচ মেটাতে পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা উত্তোলন করেন। এর ফলে বাজারে শেয়ারের জোগানের তুলনায় ক্রেতার অভাব দেখা দেয়, যা সূচককে নিচের দিকে ঠেলে দেয়।

গত কয়েক কার্যদিবসের বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বারবার ৫ হাজার বা ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে অবস্থান করছে। লেনদেনের পরিমাণও নেমে এসেছে তলানিতে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বা ‘ধীরে চলো’ নীতি কাজ করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজার মূলধনের ওপর।

বিশ্লেষকদের চোখে আস্থার সংকট ও সমাধান

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ঈদের খরচ নয়, বরং বাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থার অভাবই বর্তমান মন্দার প্রধান কারণ। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পর বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলার চেষ্টা করলেও সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু নেতিবাচক সূচক বিনিয়োগকারীদের ভীত করে তুলছে। তবে আশার কথা হলো, অনেক ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার এখন অত্যন্ত সস্তা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের মতে, “ঈদের আগে বাজারে যে চাপ থাকে তা সাময়িক। কিন্তু বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা এবং কারসাজি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হতে হবে। ঈদের পর যদি তারল্য সংকট কিছুটা কমে, তবে বড় বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে ফিরবেন।”

তারল্য প্রবাহ ও আগামী দিনের প্রত্যাশা

পুঁজিবাজারের প্রাণ হলো তারল্য। ঈদের ছুটির পর যখন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রভাব এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বৃত্ত অর্থ বাজারে আসবে, তখন লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, জুনের ক্লোজিংকে সামনে রেখে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পোর্টফোলিও পুনর্গঠন করবে, যা বাজারে নতুন চাহিদার সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন বিএসইসি এবং ডিএসই কর্তৃপক্ষের দিকে। বাজারে কারসাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হলে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষিত হলে আস্থার সংকট দ্রুতই কেটে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানের এই দরপতন স্থায়ী কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি ‘কারেকশন’ বা সংশোধনী পর্যায়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ব্যবসা-বাণিজ্য

২৫০ কর্মীর অসুস্থতায় বন্ধ হওয়া অ্যাপলের প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে

নিম্নমানের খাবার খেয়ে ২৫০ জন কর্মী অসুস্থ হওয়ার প্রায় ১ মাস পর চালু হতে যাচ্ছে অ্যাপলের পণ্য সরবরাহকারী ফক্সকনের চেন্নাই