বিতর্কের মুখে নোরার ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ নাচ: জাতীয় নারী কমিশনের তলব
কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর আইটেম গান ‘সারকে চুনার’-এ অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ লিরিকসের দায়ে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন বলিউড তারকা নোরা ফতেহি ও সঞ্জয় দত্ত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক গানটি নিষিদ্ধ করার পর, এবার ভারতের জাতীয় নারী কমিশন (NCW) দুই তারকাকে তলব করেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ‘সারকে চুনার’: কী ঘটেছিল?
গত কয়েকদিন ধরেই বিনোদন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ ছবির এই বিশেষ আইটেম নম্বরটি। মুক্তির পর থেকেই গানটির দৃশ্যায়ন নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ ওঠে, গানে নোরা ফতেহির শারীরিক অঙ্গভঙ্গি কেবল চটুলই নয়, বরং তা ‘অত্যধিক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ এবং কুরুচিপূর্ণ। একইসাথে গানে সঞ্জয় দত্তের উপস্থিতিও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকেনি। দর্শকদের একাংশ দাবি করেছেন, গানটির কথা এবং উপস্থাপনা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাধারণ রুচিবোধের পরিপন্থী।
বিতর্কের আগুন যখন তুঙ্গে, তখন বিষয়টি গড়ায় সংসদ পর্যন্ত। গত বুধবার ভারতের সংসদে গানটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সদস্যদের ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনমানসে বিরূপ প্রভাব এবং অশালীনতার কারণে ‘সারকে চুনার’ গানটিকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনি জালে সঞ্জয়-নোরা
কেবল নিষেধাজ্ঞাই শেষ নয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগেই নির্মাতাদের নোটিশ পাঠিয়েছিল। তবে এবার জাতীয় নারী কমিশনের এই সক্রিয়তা আইনি লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন দৃশ্য প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নোরার নাচ এবং সঞ্জয়ের ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহি চাইতেই এই তলব।
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে যদি বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে গত কয়েক বছরে ওটিটি এবং দক্ষিণী সিনেমায় তথাকথিত ‘আইটেম সঙ’-এর নামে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে সংসদীয় হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় পর্যায়ের কমিশনের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে নির্মাতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বিনোদনের নামে অশ্লীলতা বনাম শিল্পের স্বাধীনতা
এই ঘটনাটি আবারও একটি পুরনো বিতর্ককে উসকে দিয়েছে—শিল্পের স্বাধীনতা ঠিক কতটুকু? সেন্সর বোর্ডের নজর এড়িয়ে ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কন্টেন্ট যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তার প্রভাব পড়ে নবীন প্রজন্মের ওপর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল গান নিষিদ্ধ করাই সমাধান নয়, বরং এ ধরনের দৃশ্য নির্মাণে নির্মাতাদের আত্মসংযম এবং সেন্সরশিপের কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন।
জাতীয় নারী কমিশনের এই তলবের পর নোরা বা সঞ্জয় দত্তর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় তারা কী সাফাই দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সিনেমাপ্রেমীরা।





