বই বন্ধ করে প্রেমে পড়ার বার্তা চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের!
পড়াশোনার চাপে পিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য এক অভাবনীয় ও রোমান্টিক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে চীনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রচলিত কঠোর একাডেমিক শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কেবল প্রকৃতি উপভোগ নয়, বরং মন দেওয়া-নেওয়ার বা প্রেমে পড়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে সিচুয়ান সাউথওয়েস্ট ভোকেশনাল কলেজ অব এভিয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ‘হৃদয়ঘটিত’ বিজ্ঞপ্তিতে এখন শোরগোল নেট দুনিয়ায়।
বই সরিয়ে বসন্ত যাপনের ডাক
বসন্ত মানেই নবজীবনের গান, আর চীনের এই এভিয়েশন কলেজ সেই সুরটিকেই ধরতে চেয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সিচুয়ানের এই বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিশিয়াল উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এক বিশেষ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ‘বসন্তকালীন ছুটি’। তবে এই ছুটির উদ্দেশ্য কেবল ঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়া নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে ফুল দেখা এবং রোমান্টিক অভিজ্ঞতায় নিজেকে সিক্ত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি বলা হয়েছে, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা যেন এই কদিন বইপত্র ও ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখেন। যান্ত্রিক জীবন থেকে বিরতি নিয়ে তারা যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমের ছোঁয়া লাগানোর চেষ্টা করেন। একাডেমিক উৎকর্ষের চেয়েও এখানে জীবনের আবেগীয় ভারসাম্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ?
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং চাপযুক্ত হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সিচুয়ানের এই কলেজটি এক নতুন ধারার সূচনা করতে চাইছে। কর্তৃপক্ষের মতে, একজন শিক্ষার্থী যদি মানসিকভাবে প্রফুল্ল না থাকে, তবে তার পেশাদার জীবনেও তার প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এভিয়েশন খাতের মতো সংবেদনশীল পেশায় যারা যুক্ত হতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে জীবনের প্রতি ভালোবাসা এবং সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চীনের সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। প্রথাগত গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি বসন্ত এবং শরৎকালীন ছুটি চালুর যে ঘোষণা সরকার দিয়েছিল, সিচুয়ানের এই কলেজটি তাকেই পূর্ণাঙ্গ রূপ দিল। তারা মনে করছে, বসন্তের স্নিগ্ধতা আর প্রেমের অনুভূতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করবে।
বিশেষজ্ঞ মত ও সামাজিক প্রভাব
শিক্ষাবিদদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রেম বা রোমান্স কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একজন মানুষের সহমর্মিতা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ। চীনের জন্মহার হ্রাস পাওয়ার যে সমস্যা বর্তমানে প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, তরুণ প্রজন্মকে সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী করে তোলা হয়তো সেই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াসও হতে পারে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় থেমে নেই। অনেকে কৌতুক করে বলছেন, “পাস করার চেয়ে কি এখন প্রেম করা বেশি কঠিন হবে?” আবার অনেকে এই উদ্যোগকে আধুনিক বিশ্বের সেরা উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, চীন তার তরুণ প্রজন্মকে কেবল দক্ষ কর্মী হিসেবে নয়, বরং একজন ‘পরিপূর্ণ মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার পথে হাঁটছে।





