জাতীয় শীর্ষ এক

বিশ্বমঞ্চে অনন্য সাফল্য: জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন সফল করায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান/ছবি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পেজ থেকে নেওয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ও সফল অংশগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন-এ বাংলাদেশের পক্ষে ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অভিনন্দন প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল দেশের সরকারপ্রধানের প্রথম কোনো সফলতম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিপ্রণেতাগণ।

মূল হাইলাইটস
    • নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার বিশেষ অভিনন্দন।
    • বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ৫ দফা প্রস্তাবনার ভূয়সী প্রশংসা।
    • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতাদের সাথে সফল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে কূটনৈতিক সুফল অর্জন।
    • বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক মেইডেন ভাষণ প্রদানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অভিনন্দন ও কূটনৈতিক অর্জনের মূল্যায়ন
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বোদশে প্রত্যাবর্তন করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে সভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের সফরে বাংলাদেশের যে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভ হয়েছে, তা গত দেড় দশকে নজিরবিহীন। বিশেষ করে দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত নতুন বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর বিশ্বমঞ্চে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান।
সদস্যরা উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈশ্বিক মহাসমাবেশে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। সেখানে কেবল পুরনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নবায়নই হয়নি, বরং নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত এই ধন্যবাদ প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার সকল সদস্য একযোগে সায় দেন। সরকার মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বসফর দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিবেশ সুগম করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা এজেন্ডা ও ৫ দফা প্রস্তাবের প্রশংসা
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ইস্যুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া মিয়ানমারের ১২ লক্ষাধিক শরণার্থীর স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৫ দফা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রীরা। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন-এর মূল মঞ্চকে ব্যবহার করে মিয়ানমার জান্তা সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির যে আহ্বান বাংলাদেশ জানিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) চলমান রোহিঙ্গা জেনোসাইড মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ বিশ্ব সম্প্রদায়ের টনক নড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ তহবিলের দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করার দাবিটি ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক। মন্ত্রিসভা আশা প্রকাশ করে যে, এই জোরালো দাবির ফলে উন্নত বিশ্ব এখন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য হবে।
তিন প্রজন্মের ধারাবাহিকতা ও জাতীয় গৌরব
বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা আবেগঘন কণ্ঠে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসে এই সফরের এক বিরল ও অভূতপূর্ব নজিরের কথা স্মরণ করেন। ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে একই মঞ্চে দেশের মানুষের অধিকারের কথা বিশ্ববাসীকে শুনিয়েছিলেন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
আজ ২০২৬ সালে এসে তাদেরই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কোটি কোটি আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে সেই একই বিশ্বমঞ্চে সফল নেতৃত্ব দিলেন। নেতৃত্বের এই অভাবনীয় ধারাবাহিকতা এবং বিশ্ব দরবারে একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন উজ্জ্বল উপস্থিতি কেবল বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেই অত্যন্ত বিরল ঘটনা। মন্ত্রিসভা এই ঐতিহাসিক গৌরবকে জাতীয় রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও বিশ্বনেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুফল
মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয় যে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক কূটনীতির এক বিশাল মাইলফলক হতে চলেছে। মন্ত্রিসভা আশা প্রকাশ করে যে, এই সফরের সুফল খুব দ্রুত দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং বাজার স্থিতিশীল ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র