Tathya Sangjog is an e-learning platform where one can share news from numerous categories, like administration, art, movies, music, market trends, technology, etc.
ন্যাম ভবনে অমানুষিক নির্যাতন: বারান্দায় ঘুমাতে হতো সাবেক এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রী মরিয়মকে, জানাল পুলিশ
BY মাসুম
September 28, 2026
0
Comments
67 Views
মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ন্যাম ভবনে সাবেক এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে দীর্ঘদিন বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ (প্রতীকী চিত্র)।
সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ন্যাম ভবনে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। ক্ষমতার প্রচ্ছন্ন ছায়ায় চার দেয়ালের আড়ালে একজন নারীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তা সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক মর্যাদা আর লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন সবকিছু আড়ালে থাকলেও বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি এবং প্রাথমিক তদন্তে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক।
মূল হাইলাইটস
রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে সাবেক এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ।
মরিয়মকে ফ্ল্যাটের মূল ঘরের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে শীত-গ্রীষ্ম নির্বিশেষে বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পারিবারিক কলহ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এবং ভুক্তভোগী নারীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
ন্যাম ভবনের আড়ালে অন্ধকার অধ্যায় ও পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য
আইন প্রণেতাদের সুরক্ষিত আবাসন হিসেবে পরিচিত ন্যাম ভবনে যে এমন অন্ধকার ও নৃশংস ঘটনা নিয়মিত ঘটত, তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে ছিল। পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে রাজকীয় সেই ফ্ল্যাটের ভেতরের কোনো রুমে থাকার ন্যূনতম অধিকার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘরের বাইরের বারান্দায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী নারী অশ্রুসিক্ত চোখে জানান, তাকে দিনের পর দিন ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না এবং সামান্য অজুহাতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিবেশীরাও মাঝে মাঝে গভীর রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় কেউ সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে সাহস পাননি। সম্প্রতি মরিয়মের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং নির্যাতনের মাত্রা সহ্যসীমা অতিক্রম করলে বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে এবং মরিয়মের থাকার সেই জীর্ণ বারান্দাটি আলামত হিসেবে পরিদর্শন করেছে। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির ঘরে তাঁর নিজের স্ত্রীর এমন মানবেতর জীবনযাপনের খবরটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি ও নির্মমতার নেপথ্য কারণ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ভয়াবহ নির্যাতনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত পারিবারিক চক্রান্ত এবং সম্পত্তিগত কোন্দল। গাজী নজরুলের প্রথম পক্ষের সন্তান ও আত্মীয়দের উসকানিতেই মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু মরিয়ম সেখানে অবস্থান করায় তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে এই অভিনব ও নির্মম পন্থা বেছে নেওয়া হয়। মূল ঘরের দরজা তাঁর জন্য সব সময় বন্ধ থাকত, যেন তিনি নিজ থেকেই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের দেশে নারীরা ঘরের ভেতরে কতটা অসহায়, এই ঘটনাটি তার আরও একটি বড় উদাহরণ। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের ভেতর এমন অপরাধ ঘটলেও তা ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনি প্রক্রিয়ায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মরিয়মকে বর্তমানে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তার জন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আইনি সুরক্ষার দাবি ও ওলামা সমাজের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একজন মুসলিম এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইসলাম ও প্রচলিত আইনের যে চরম লঙ্ঘন এখানে হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওলামা সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন, ইসলামে স্ত্রীর অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বস্তরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে।
মামলার অগ্রগতি ও প্রশাসনের অবস্থান
ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগমের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ মামলার এজাহার পর্যালোচনার পাশাপাশি ন্যাম ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করছে। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘরের ভেতরে গৃহনির্যাতন চালানোর এই সংস্কৃতিকে কঠোরহস্তে দমন করা হবে। এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের সচেতন সমাজ।