নির্বাচনের শুদ্ধতা নিশ্চিতে ইইউ’র নজর: জামায়াত আমিরের সঙ্গে প্রধান পর্যবেক্ষকের বৈঠক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস।
নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে ১৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের জামায়াত কার্যালয় সফরকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে জামায়াত যখন রাজপথে সরব, তখন আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির সরাসরি অংশগ্রহণ মাঠপর্যায়ের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
সাক্ষাৎকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
ইইউ মিশনের পক্ষ থেকে ইভারস ইজাবস জানান, তারা কেবল ঢাকা নয়, সারা দেশের ১৮২টি নির্বাচনী এলাকা ও ৬৪টি জেলায় তাদের পর্যবেক্ষক দল মোতায়েন করেছেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইইউ বাংলাদেশে এত বড় পরিসরে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাল। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
বৈঠক শেষে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন পরবর্তী এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ডা. শফিকুর রহমান ইইউ প্রতিনিধি দলকে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য হয়রানি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, “আমরা একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—সবকিছুই যদি স্বচ্ছ হয়, তবেই এই নির্বাচন সার্থকতা পাবে।” জামায়াতের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
সূচকের পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
ইইউ প্রতিনিধি দলের এই সফরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:
-
প্রতিনিধি দলের আকার: ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের দল, যার সাথে সারা দেশে আরও প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক কাজ করছেন।
-
মূল লক্ষ্য: সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে কারিগরি ও নৈতিক সহায়তা প্রদান।
-
পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র: ভোটার নিবন্ধন, প্রচারণা, ভোটগ্রহণ এবং পরবর্তী ফলাফল গণনা প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ।
বৈঠক শেষে ইভারস ইজাবস সাংবাদিকদের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং তারা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে। এই সফর কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলাদেশের নির্বাচনী অংশীজনদের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরির একটি প্রয়াস।





