ক্ষমতায় গেলে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা তারেক রহমানের
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দাবির পালে হাওয়া দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে নবম জাতীয় বেতন কমিশন (পে-স্কেল) যথাসময়ে ঘোষণা ও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বেতন বৈষম্য দূরীকরণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলনরত লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর জন্য এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা যখন এই গুরুভার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ন্যস্ত করেছেন, ঠিক তখন তারেক রহমানের এই প্রতিশ্রুতি প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
২০১৫ সালে অষ্টম বেতন স্কেল ঘোষণার পর প্রায় এক দশক অতিক্রান্ত হতে চললেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো আলোর মুখ দেখেনি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে সরকারি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা যখন দিশেহারা, তখন থেকেই তারা ৯ম পে-স্কেল ও মহার্ঘ ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা থাকলেও বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আগামী সরকার।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। তাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করলে কালক্ষেপণ না করে ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করবে।”
ভাষণের প্রধান দিক ও বিশেষ অঙ্গীকার
তারেক রহমানের এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
-
যথাসময়ে বাস্তবায়ন: ক্ষমতায় যাওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ।
-
মূল্যস্ফীতির সমন্বয়: বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন পুনর্নির্ধারণ।
-
বৈষম্য নিরসন: গ্রেডভিত্তিক যে বৈষম্যগুলো দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান, তা দূর করতে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন।
-
পেশাদারিত্ব নিশ্চিত: দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর সমর্থন আদায়ে এটি বিএনপির একটি শক্তিশালী ‘মাস্টারস্ট্রোক’। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বর্তমান নাজুক অবস্থায় এই বিশাল আর্থিক দায়ভার সামলানো হবে নতুন সরকারের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে না আনলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা বেশ দুরূহ হতে পারে।





