দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর: মে মাসেও প্রকাশিত হচ্ছে না প্রাথমিক বৃত্তির ফল
আইনি জট আর কয়েক দফার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে আবারও দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই মেধা যাচাইমূলক পরীক্ষা। কথা ছিল পরীক্ষার এক মাসের মধ্যেই খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। কিন্তু মে মাসের মাঝামাঝি সময় পার হতে চললেও শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোনো সুখবর। এই বিলম্ব কেবল শিক্ষার্থীদের মনেই নয়, বরং অভিভাবকদের মাঝেও সৃষ্টি করেছে তীব্র উৎকণ্ঠা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফল তৈরির কারিগরি প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে বাড়তি কিছু সময় প্রয়োজন হচ্ছে। যদিও মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনিক ও কারিগরি কিছু জটিলতার কারণে সেই ডেডলাইন পার হয়ে যাচ্ছে।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পথ চলাটা খুব একটা সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি জটিলতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দোলাচলে কয়েক দফায় পিছিয়ে গিয়েছিল এই পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের মধ্য দিয়ে এই পরীক্ষার ঘন্টা বাজে। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয় এই সংক্ষিপ্ত মেধা যাচাই উৎসব।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার এই অস্বাভাবিক বিলম্বই মূলত ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি চেইন-রিঅ্যাকশন তৈরি করেছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসেও যখন শিক্ষার্থীরা বৃত্তির ফলাফল হাতে পায় না, তখন তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে পড়াশোনার উদ্দীপনা কিছুটা হলেও থমকে যায়। বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফল একটি বড় মানসিক সমর্থনের জায়গা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার বৃত্তির ফল তৈরিতে শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। যেহেতু এটি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং মেধা তালিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই খাতা মূল্যায়নের পর প্রাপ্ত নম্বরগুলো ডাটাবেজে এন্ট্রি করার ক্ষেত্রে দ্বিগুণ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি বা তথ্য বিভ্রাট যেন ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সেজন্যই মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।





