বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিচ্ছি: রণধীর জয়সওয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও ‘ইতিবাচক দিকে’ নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। মঙ্গলবার (১২ মে) নয়াদিল্লিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঢাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি।
একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ঢাকা-দিল্লি অক্ষ বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নানা পরিবর্তনের মুখে এই সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় ছিল নানামুখী গুঞ্জন। সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছি যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আমরা ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিচ্ছি।”
তার এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। জয়সওয়ালের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কেবল গতানুগতিক কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন কৌশলগত গভীরতায় পৌঁছেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দুই দেশই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বর্তমান বিশ্ববাজারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারে। এই কঠিন সময়েও দিল্লির পক্ষ থেকে ঢাকার জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও তেলের টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও ভারত বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।
মূলত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার যে কাঠামো গড়ে উঠেছে, তা এই সংকটের সময়ে ঢাকার জন্য বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। মুখপাত্রের ভাষায়, নয়াদিল্লি তার নিজের চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশীর প্রয়োজনকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।





