ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় গোলাবারুদ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে জড়িয়ে গোলাবারুদ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অভিযান চালাতে গিয়ে ওয়াশিংটন এখন নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি কোথায় সামরিক শক্তি ধরে রাখবে, আর কোথায় পিছিয়ে আসবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই সংকট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নির্ভুল হামলার অস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি এক হাজারের বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা বছরে তাদের স্বাভাবিক ক্রয়ের প্রায় ১০ গুণ। একই সঙ্গে ১,২০০-র বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি।
এছাড়া প্রায় ১,১০০ দীর্ঘপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি গ্রাউন্ড-বেসড প্রিসিশন স্ট্রাইক ও ATACMS ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপে মোতায়েন সামরিক কমান্ড থেকেও অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে হয়েছে। এতে চীন ও রাশিয়ার মতো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল সমস্যা শুধু বর্তমান যুদ্ধ নয়—ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাচ্ছে না, তবে পরবর্তী বড় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা থাকায় পেন্টাগনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের ভেতরেও এ নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত অবস্থান বজায় রাখা জরুরি; অন্য পক্ষের মতে, অতিরিক্ত মনোযোগ সেখানে দিলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল হবে। এই দ্বন্দ্বই ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্পও এখানে বড় ফ্যাক্টর। দ্রুত নতুন অস্ত্র উৎপাদন সহজ নয়। টমাহক, থাড, প্যাট্রিয়ট কিংবা অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের আগেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়ার ফল এখন স্পষ্ট হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
- ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১,০০০-এর বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে
- ১,২০০-র বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে প্রতিরক্ষা মজুত কমেছে
- এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে হয়েছে
- চীন-তাইওয়ান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে
- নতুন গোলাবারুদ উৎপাদন ও সরবরাহে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে
- ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন অগ্রাধিকার নির্ধারণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিকভাবেও এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সংবেদনশীল। যুদ্ধ ব্যয়, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। কংগ্রেসে অতিরিক্ত সামরিক বাজেট অনুমোদনের প্রশ্নও সামনে এসেছে।





