ফিচার স্বাস্থ্য

ভেজাল দুধ চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন সহজ কিছু উপায়

ভেজাল দুধ চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন সহজ কিছু উপায়

দুধ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের একটি অপরিহার্য অংশ। শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, সবার জন্যই এটি পুষ্টির নির্ভরযোগ্য উৎস। কিন্তু ভেজাল দুধ অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন না হলে দীর্ঘমেয়াদে ভেজাল দুধ কিডনি, লিভার ও হজমজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সকালের নাস্তা থেকে রাতের শেষ খাবার—দুধের ব্যবহার আমাদের ঘরে ঘরে। চা, কফি, দই, মিষ্টি কিংবা শিশুর খাবার—সব ক্ষেত্রেই দুধের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা শরীরের হাড় মজবুত রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

তবে লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় দুধে পানি, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া, এমনকি ক্ষতিকর রাসায়নিক পর্যন্ত মিশিয়ে থাকে। বাইরে থেকে দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও এসব ভেজাল শরীরে ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল দুধ নিয়মিত পান করলে পেটের সমস্যা, বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে অ্যালার্জি, লিভারের জটিলতা এবং শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরিয়া বা ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ খেলে কিডনির ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে।

ঘরেই কিছু সহজ উপায়ে দুধে ভেজাল আছে কি না তা প্রাথমিকভাবে বোঝা সম্ভব। যেমন, পরিষ্কার মসৃণ কোনো পাথর বা কাঁচের ওপর এক ফোঁটা দুধ ফেলুন। যদি দুধ ধীরে ধীরে নিচে নামে এবং সাদা দাগ রেখে যায়, তবে সেটি তুলনামূলকভাবে বিশুদ্ধ হতে পারে। আর যদি খুব দ্রুত গড়িয়ে যায়, তবে তাতে অতিরিক্ত পানি মেশানো থাকতে পারে।

স্টার্চ পরীক্ষা করতেও রয়েছে সহজ পদ্ধতি। সামান্য দুধ ঠান্ডা করে তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন মেশালে যদি নীল রং দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে স্টার্চ রয়েছে। একইভাবে দুধে অতিরিক্ত ফেনা এবং সাবানের মতো গন্ধ থাকলে ডিটারজেন্টের উপস্থিতি সন্দেহ করা যেতে পারে।

ফোটানোর সময়ও কিছু লক্ষণ দেখা যায়। খাঁটি দুধ সাধারণত ধীরে ঘন হয় এবং স্বাভাবিক সুগন্ধ তৈরি করে। ভেজাল দুধে অনেক সময় অস্বাভাবিক গন্ধ, অতিরিক্ত ফেনা বা আলাদা স্তর দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

  • দুধে সাধারণত পানি, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া ইত্যাদি ভেজাল মেশানো হয়
  • ভেজাল দুধ দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও হজমের ক্ষতি করতে পারে
  • এক ফোঁটা দুধ কাঁচে ফেলে পানির উপস্থিতি বোঝা যায়
  • আয়োডিন দিয়ে স্টার্চের উপস্থিতি পরীক্ষা করা সম্ভব
  • অতিরিক্ত ফেনা ও অস্বাভাবিক গন্ধ ডিটারজেন্টের লক্ষণ হতে পারে
  • বিশ্বস্ত উৎস থেকে দুধ কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘরোয়া পরীক্ষা নয়, সবচেয়ে জরুরি হলো বিশ্বস্ত উৎস থেকে দুধ সংগ্রহ করা। খোলা দুধের বদলে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত খামার থেকে দুধ কেনা নিরাপদ। পাশাপাশি সরকারি তদারকি জোরদার করাও সময়ের দাবি।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার