হাদির হামলায় সীমান্তে কড়া নজরদারি; বিজিবির দ্বিগুণ টহল!
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যেকোনো অপরাধী যাতে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত থেকেই যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম দ্বিগুণ করা হয়েছে।
সরাইলের ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জব্বার আহমেদ জানান, সদর দফতরের সরাসরি নির্দেশনায় আখাউড়া, বিজয়নগর এবং হবিগঞ্জের কিছু অংশসহ দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। “অবৈধভাবে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে না। আমরা ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছি,” বলেন তিনি।
একইভাবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান বলেন, “কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবৈধ পারাপার ঠেকাতে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি বদ্ধপরিকর।”
এই বাড়তি সতর্কতার পটভূমি হলো ওসমান হাদির ওপর হামলার পর রাজনৈতিক মহলে উঠে আসা আশঙ্কা—হামলাকারীরা ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে।
ওসমান হাদি এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা আশা করছেন ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। এই ঘটনায় পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত করেছে এবং গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। বিজিবির এই সতর্কতা নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





