হামলার পেছনে ‘চক্রান্তের হাত’; ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ এবং ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এর পেছনে একটি মহলের সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে এবং কিছু পক্ষ এই সহিংসতা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির চলমান ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সাতদিনের কর্মসূচির এক অধিবেশনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “ওসমান হাদির ওপর এই ঘটনা ঘটিয়েছে একটি মহল। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামেও আমাদের এক কর্মীর ওপর হামলা হয়েছিল। এসব ঘটনার মাধ্যমে কেউ ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে বিএনপির পক্ষ থেকে যে চক্রান্তের কথা বলা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। “রাজনীতির অভিজ্ঞতা কম বা বেশি বলে কথা নয়, নির্বাচন কঠিন হবে। গতকালের ঘটনা, চট্টগ্রামের ঘটনা প্রমাণ করে অতীতে যে চক্রান্তের কথা বলেছি, সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সবকিছু।”
বিএনপি নেতা আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন করা বিএনপির পক্ষেই সম্ভব। দুর্নীতির তকমা থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছিল বিএনপিই।” তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ না হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।” ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলার উপায় বাতলে তিনি বলেন, “দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে মানুষকে সাহসী করতে হবে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। নির্বাচন আয়োজন করতে হবে—এই দাবিতে সবাই মিলে এগিয়ে এলে ষড়যন্ত্রকারীরা পিছিয়ে যাবে।”
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। এর আগে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় দলটি তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। ওসমান হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন—তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্য নির্বাচনের মাঠে সহিংসতার বিরুদ্ধে দলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।





