জাতীয় ফিচার

‘সীমান্ত হত্যা আর শুনতে চাই না’: ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্পষ্ট বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘সীমান্ত হত্যা আর শুনতে চাই না’: ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্পষ্ট বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সীমান্তে আর কোনো প্রাণহানির খবর শুনতে না হয়—এমন প্রত্যাশা জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ভারতের হাইকমিশনারকে সীমান্ত নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, সে বিষয়ে জোর দিয়েছি।”

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের দীর্ঘতম স্থলসীমান্তগুলোর একটি। প্রায় চার হাজার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই সীমান্তে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কখনও চোরাচালান, কখনও অনুপ্রবেশ, আবার কখনও ভুল বোঝাবুঝির জেরে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধান এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

মন্ত্রী জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)—নিয়মিত বৈঠক করে থাকে। “আমরা বলেছি, যতটুকু সম্ভব যেন এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলা হয়। মাঠপর্যায়ে সমন্বয় জোরদার করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত ইস্যুতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বাস্তবায়নে প্রয়োজন কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহি।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত হত্যা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। একদিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ছে, অন্যদিকে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা জনমনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে শুধু বৈঠক বা বার্তা যথেষ্ট নয়—এমন মতও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে ‘নন-লেথাল’ পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও যৌথ টহল বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র