হরমুজে অচলাবস্থা: ইরানে হামলার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডে ২০ ডলার বাড়ার শঙ্কা
ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। প্রখ্যাত জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি এক গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’। পারস্য উপসাগর থেকে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে। রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বহু জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফলে সরবরাহ চেইনে তাৎক্ষণিক ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে বিশ্ববাজারে ঢুকত। বর্তমানে সেই প্রবাহ কার্যত থমকে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ও রুট ব্যবহার করে কিছুটা ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি থেকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার সময়ও এমন নজির দেখা গেছে। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ হামলায় সরাসরি যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দুই শক্তি। এতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার বেড়ে গেলে এর প্রভাব কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয় বাড়বে, শিল্প উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পাবে, এবং শেষ পর্যন্ত তা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ হিসেবে দেখা দেবে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি হবে আরও চ্যালেঞ্জিং।
মূল তথ্য এক নজরে:
- প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১.৫ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতো
- বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করেও ৮০ লাখ–১ কোটি ব্যারেল দৈনিক ঘাটতির শঙ্কা
- বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডে অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস
- সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্য অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ফিউচার মার্কেটে ইতোমধ্যেই অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলেছে বলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে। অনেক দেশ কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দেওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কাটার সম্ভাবনা কম।





