সংসদ নির্বাচন ২০২৬: টানা দুদিন বন্ধ থাকছে সব দোকান ও শপিংমল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের আগের দিন ও ভোটের দিন অর্থাৎ আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) রাজধানীসহ সারাদেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দিয়েছে।
ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত
জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে এবং ব্যবসায়িক কর্মচারীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই টানা ৪৮ ঘণ্টার এই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিটি ছোট-বড় দোকান ও বাণিজ্যিক বিতান এই নির্দেশের আওতায় থাকবে।
নির্বাচনী আমেজ ও ছুটির ক্যালেন্ডার
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এর আগে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে কার্যত আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের বিরতি পড়তে যাচ্ছে।
নির্বাচনী ছুটির বিশেষ কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
-
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার): শিল্পাঞ্চল ও কারখানার শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছুটি।
-
১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার): নির্বাচনের আগের দিন হিসেবে সাধারণ ছুটি ও দোকান বন্ধ।
-
১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার): ভোটগ্রহণের দিন, সারাদেশে সাধারণ ছুটি ও সব শপিং মল বন্ধ।
-
যানবাহন চলাচল: ভোটগ্রহণের দিন জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিআরটিএ (BRTA)।
টানা কয়েকদিন বাজার-ঘাট ও শপিং মল বন্ধ থাকার ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করার এক তোড়জোড় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বড় বড় শপিং মল যেমন বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে নিউ মার্কেট কিংবা মৌচাকের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলো জনশূন্য থাকবে। জরুরি কাঁচাবাজারের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কিছুটা শিথিলতা থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় বাজার কমিটিগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় স্বস্তির কারণ হবে। জনসমাগম এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে দোকানপাট বন্ধ রাখা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করবে।





