গোল্ডেন বুট ও বল হাতে বিষণ্ণ আলপি!
পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের নিচে তখন ভারতের উৎসব। একদিকে যখন নীল জার্সিধারীরা শিরোপার উল্লাসে মত্ত, ঠিক তখনই বিষণ্ণ মুখে মঞ্চে উঠলেন বাংলাদেশের স্ট্রাইকার আলপি আক্তার। হাতে টুর্নামেন্ট সেরার ‘গোল্ডেন বল’ আর সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’। অথচ রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম খোদাই করেও আলপির মুখে ছিল না এক চিলতে হাসি। ফাইনালে ৪-০ গোলের হার যেন ম্লান করে দিয়েছে তার ব্যক্তিগত সব প্রাপ্তিকে।
নেপালে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রার সারথি ছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা থেকে উঠে আসা এই কিশোরী। টুর্নামেন্টজুড়ে তার পায়ের কারুকাজ আর গোলক্ষুধা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য ছিল এক আতঙ্কের নাম। লিগ পর্বে বাংলাদেশের করা ১৮টি গোলের মধ্যে একাই ৭টি করেছেন আলপি। দুটি বিধ্বংসী হ্যাটট্রিক করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কেন তাকে দেশের ফুটবলের আগামী দিনের পোস্টার গার্ল বলা হচ্ছে।
ফাইনালের ট্র্যাজেডি
সারা টুর্নামেন্টে আগুনের ফুলকি ছড়ালেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে ভাগ্য দেবীর সহায়তা পাননি আলপি। ফাইনালে ভারতের আঁটসাঁট রক্ষণের সামনে বারবার খেই হারিয়েছেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। বল নিয়ন্ত্রণ কিংবা আক্রমণে নেতৃত্ব—সবকিছুতে চেষ্টা থাকলেও জালের দেখা পাননি তিনি। দলের হারের দিনে ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো তাই তার কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবলই সান্ত্বনা। পুরস্কার গ্রহণ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় তার ছলছল চোখ বলে দিচ্ছিল, গোল্ডেন বুটের চেয়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটাই হয়তো তার কাছে বেশি মূল্যবান ছিল।
এক নজরে আলপির রাজকীয় পরিসংখ্যান
টুর্নামেন্টে আলপি আক্তারের আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। নিচে তার অর্জনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
-
মোট গোল: ৩ ম্যাচে ৭টি (টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ)।
-
হ্যাটট্রিক: ২ বার (ভুটান ও নেপালের বিপক্ষে)।
-
ব্যক্তিগত পুরস্কার: গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) এবং গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্ট সেরা)।
-
ঘরোয়া ফর্ম: বর্তমান লিগে রাজশাহী স্টারসের হয়ে ৮ ম্যাচে ২৫ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
দল হারলেও আলপি আক্তারের এই ব্যক্তিগত উত্থান বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। সাফের গত আসরগুলোতে সাগরিকার মতো ফুটবলাররা যেভাবে রাজত্ব করেছেন, আলপি যেন সেই ধারবাহিকতা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন। কোচ পিটার বাটলারের অধীনে তার এই পরিণত ফুটবল শৈলী ভবিষ্যতে সিনিয়র জাতীয় দলেও তাকে বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।





