‘লাইফ সাপোর্টে’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ তথা চরম মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার শর্ত নিয়ে দুপক্ষের অনড় অবস্থানে শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির সংকেত দেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ভাষ্যমতে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বর্তমানে এতটাই ক্ষীণ যে, এটি এখন কেবল অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় টিকে আছে।
ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি শান্তি আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতিকে একজন সংকটাপন্ন রোগীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতির অবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেন একজন ডাক্তার এসে আপনাকে বলছেন ‘স্যার, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এখন মাত্র ১ শতাংশ।’”
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যারা আশা করেছিলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর দুই দেশ হয়তো একটি স্থিতিশীল সমঝোতায় পৌঁছাবে, তাদের জন্য এই বক্তব্য একটি বড় ধাক্কা। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিলে বসার প্রাথমিক শর্তগুলো নিয়েই দুই মেরুর দুই দেশ এখনো যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। তাদের আঞ্চলিক সংঘাত থেকে সরে আসতে হবে এবং পরমাণু সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এই ‘কে আগে ছাড় দেবে’ এমন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে শান্তি প্রক্রিয়া এখন খাদের কিনারায়। নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে যে, গত কয়েক সপ্তাহে পর্দার আড়ালে বেশ কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও কোনো পক্ষই তাদের ন্যূনতম অবস্থান থেকে সরতে রাজি হয়নি। ফলে যে যুদ্ধবিরতির কথা ভাবা হচ্ছিল, তা এখন কেবল কাগুজে দলিলেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। হরমুজ প্রণালীতে উত্তজনা বাড়লে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।





