পাহাড়-সমতলে বিভেদহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে দেশের সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। তিনি মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করে সকল জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবে এমন একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে রাঙ্গামাটির বনরুপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে জেলা এনসিপি আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “৭২-এর সংবিধান পাহাড় ও সমতলের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। আমরা চাই, সকল জনগোষ্ঠীকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে। এটি হবে এমন একটি চুক্তি, যা পাহাড় ও সমতলের অধিকার নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “এনসিপি একটি বহুজাতিক, বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিকের অধিকার বা মর্যাদার বৈষম্য থাকবে না।”
পথসভার আগে এনসিপি নেতৃবৃন্দ রাঙ্গামাটি শহরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা শুরু করেন, যা শহরের প্রধান সড়ক হয়ে বনরুপা সিএনজি চত্বরে এসে শেষ হয়। এর আগে তারা কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া, ঘাগড়া ও রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট বাজারে পৃথক পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, দলীয় নেতা এস এম সুজা উদ্দিন, রুবাইয়া শ্রেষ্ঠা তংচংগ্যা প্রমুখ।
রাঙ্গামাটির স্থানীয় বাসিন্দা প্রিয়াংকা চাকমা বলেন, “নতুন সংবিধানের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য স্থাপন সম্ভব। আমরা চাই আমাদের অধিকার নিশ্চিত হোক।” আরেক বাসিন্দা মো. নুরুল আমিন বলেন, “এনসিপির এই উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করেছে। সব জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ন্যায্য সংবিধান প্রয়োজন।”





