“সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এখানে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। রাতারাতি সবকিছু অর্জন সম্ভব না হলেও, আমরা এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই, যাতে আগামী দিনে শান্তি ও সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।” রোববার বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষক ও নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের সম্পদ মানুষ। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। গত ১৯ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। জিপিএ-৫-এর পেছনে ছুটতে গিয়ে শিক্ষার মান ধরে রাখা যায়নি। তবে এখন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” তিনি শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর জোর দেন, যা পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “বান্দরবানে ৪ লাখ মানুষের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার অতিদরিদ্র। খাগড়াছড়িতে ৬ লাখের মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার এবং রাঙামাটিতে সাড়ে ৫ লাখের মধ্যে ৯০ হাজার মানুষ অতিদরিদ্র। বান্দরবান সবদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।” তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান সদর উপজেলার ৩০০ জনের মাঝে ফলদ, বনজ, বাঁশ ও কফি চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১১৬ জনকে গবাদি পশু, ৩০ জনকে সেলাই মেশিন, ৩১ জনকে মাতৃসেবা অনুদান এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলায়ও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চলবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বান্দরবানের কৃষক রতন ত্রিপুরা বলেন, “এই সহায়তা আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সরকারের উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করেছে।” স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা মিতু চাকমা বলেন, “সেলাই মেশিন পেয়ে আমি নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারব। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার।”





