নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো ছিদ্র নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে যখন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের নির্বাচনগুলোতে ব্যালট ছিনতাই, ভোটকেন্দ্র দখল এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। “দুষ্কৃতকারীরা যতই চেষ্টা করুক, ভোটকেন্দ্রগুলোতে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যে, ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না,” বলেন তিনি। সিআইডির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অপরাধ পর্যালোচনার এই সভা থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনী অপরাধ মোকাবিলায় আরও সতর্ক হতে হবে।
এই সভা আয়োজিত হয়েছে সিআইডির ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে, যেখানে গত তিন মাসের অপরাধের ধরন, প্রবণতা এবং মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিআইডির প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, আনসার এবং অন্যান্য বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত বছরের জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের মাইলফলক হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনী সহিংসতা একটি চিরাচরিত সমস্যা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর ছাত্র-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার উল্টে যায়। এরপর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এবারের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের জন্য ভোট হবে। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে তৈরি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পূর্ববর্তী সরকারের সময় লুট হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার হতে পারে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, তিনি আনসার বাহিনীকে নির্বাচনী অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন। পুলিশকে কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, ভোট জালিয়াতি এবং দখলের ঘটনা ঘটেছে, যা এবার এড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার অংশ নেবেন, যাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ যুবক-যুবতী। এই যুবশক্তি গত বছরের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।





