এডিপি প্রকল্পে বিলম্ব সহ্য করা যাবে না: দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের কড়া হুঁশিয়ারি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক-ই-আজম বলেছেন, বারবার বিলম্বিত হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন। এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন সারাদেশে এডিপি বাস্তবায়নের হার ঐতিহাসিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে এবং দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণ গুদামসহ অবকাঠামো প্রকল্পের সময়মতো সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
সভায় উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জোর দিয়ে বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার পূরণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এর সফলতার ওপরই নির্ভর করে জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিলম্বের কারণে প্রকল্পগুলোর খরচ বেড়ে যায়, লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত দুর্যোগের সময় জনগণের কাছে পৌঁছানো যায় না। “যে প্রকল্পগুলো বারবার পিছিয়ে পড়ছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে বাধা দূর করুন। দেরি আর সহ্য করা যাবে না,” বলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা এই উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বশীলতার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এ অর্থবছরে মোট ১১টি প্রকল্প রয়েছে—১০টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং একটি কারিগরি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার খুবই কম। সারাদেশে এডিপির সামগ্রিক বাস্তবায়ন হার ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ-সংস্কার, ত্রাণ গুদাম উন্নয়ন, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ জীবনরক্ষামূলক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত। এগুলো সময়মতো না হলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অন্যান্য বাধা দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় দুর্যোগ প্রশমনকে (mitigation) প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য প্রকল্পগুলোর দ্রুত সমাপ্তি অপরিহার্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেটের অংশ হিসেবে সংস্কারের পাশাপাশি জনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এডিপি প্রকল্পের বিলম্ব শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানুষের জীবনের ঝুঁকিও বাড়ায়। গত কয়েক বছরে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্র, গুদাম এবং সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হয়। উপদেষ্টার এই নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।





