জাতীয় চিড়িয়াখানাই মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর স্থায়ী ঠিকানা!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পশুর হাটে ঝড় তোলা সেই আলোচিত বিশালাকার মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ অবশেষে তার স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। ঢাকার গাবতলী পশুর হাট থেকে শুরু করে কোরবানির বাজার কাঁপানো এই মহিষটিকে কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী নয়, বরং কিনে নিয়েছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
বিরল জাত, বিশাল শারীরিক গঠন এবং অদ্ভুত নামকরণের কারণে দেশজুড়ে তুমুল কৌতুহল সৃষ্টি করা এই প্রাণীটি এখন থেকে সাধারণ মানুষের বিনোদন ও গবেষণার খোরাক জোগাবে সরকারি এই বিনোদন কেন্দ্রে।
ভাইরাল থেকে খাঁচায়: কীভাবে এলো এই সিদ্ধান্ত?
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যখন নানা বাহারি নামের পশু রাজধানীর হাটে আসে, তখন সব আলো কেড়ে নিয়েছিল ধূসর-কালো রঙের এই দানবাকৃতির মহিষটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে মিলিয়ে শখের বশে খামারি এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটির ভিডিও ভাইরাল হওয়া মাত্রই গাবতলীর হাটে উপচে পড়া ভিড় জমতে শুরু করে।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে থাকা এই মহিষটির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে এর বিক্রি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে এই অনন্য প্রাণীটি। চিড়িয়াখানা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় এবং নিখুঁত শারীরিক গঠনের মহিষ বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। এটি যেমন চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য ও আকর্ষণ বাড়াবে, তেমনি দেশের প্রাণিবিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার একটি নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর বিশেষত্ব ও কেনাবেচার নেপথ্য
এই মহিষটি সাধারণ কোনো দেশি জাতের নয়। খামারিদের দাবি, এটি ক্রস ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে বিশেষভাবে লালন-পালন করা হয়েছে, যার কারণে এর আকার ও ওজন সাধারণ মহিষের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।
-
দৈহিক গঠন ও ওজন: সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা এই মহিষটির ওজন প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি (১.২ টন)। এর বিশাল শিং এবং রাজকীয় চলন একে অন্য পশুর চেয়ে আলাদা করেছে।
-
খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিন এর পেছনে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হতো খামারির। কাঁচা ঘাস, খড় ছাড়াও দানাদার খাবার, ভুসি এবং বিভিন্ন ফলের ডায়েট চার্ট ছিল এর প্রাত্যহিক রুটিনে।
-
হস্তান্তর প্রক্রিয়া: জানা গেছে, খামারির লোকসান ঠেকাতে এবং প্রাণীটির সুরক্ষায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতিতে চিড়িয়াখানা বাজেট থেকে একটি সম্মানজনক মূল্যে এটিকে সরকারিভাবে কিনে নেওয়া হয়।
চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথি: দর্শনার্থীদের অপেক্ষা
জাতীয় চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে চিড়িয়াখানায় আনার পর সরাসরি সাধারণ প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি এবং নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তাকে আপাতত নির্দিষ্ট একটি কোয়ারেন্টাইন জোনে রাখা হয়েছে। সেখানে চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জনরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
চিড়িয়াখানার কিউরেটর জানান, “আমাদের এখানে মহিষের সংখ্যা এমনিতেই কম, আর এই জাতটি সত্যিই বিরল। কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হলেই একটি বড় ও উন্মুক্ত এনক্লোজারে একে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আমরা আশা করছি, আগামী ছুটির দিনগুলোতে এটিই হবে চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ।”
পশুর হাটের ক্ষণস্থায়ী জাঁকজমক আর কোরবানির অনিশ্চয়তা থেকে বেঁচে গিয়ে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায়। একটি পশুর নামকরণের কারণে সামাজিক মাধ্যমে যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত একটি ইতিবাচক পরিণতি পেল।
হাটের ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে চিড়িয়াখানার সবুজ পরিবেশে এই বিশালাকার অতিথি কত দ্রুত মানিয়ে নেয় এবং দর্শনার্থীদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





