ঢাকাসহ ৫ বিভাগে ঈদের দিন বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি
ঈদের উৎসবের আমেজে বাধ সাধতে পারে বরুণ দেব। ঈদের দিন সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পাঁচ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।
ফলে ঈদের সকালে কোলাকুলি আর ঈদগাহে যাওয়ার আনন্দ কিছুটা ম্লান হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উৎসবের আকাশে মেঘের আনাগোনা: আবহাওয়া অফিসের বার্তা
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতরের আনন্দ যখন ঘরে ঘরে কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই আকাশের মুখভার দেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকার কারণে এই মেঘ-বৃষ্টির খেলা।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদের দিন সকাল থেকেই আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, মুষলধারে বা অতি ভারী বর্ষণের কোনো আশঙ্কা নেই। মূলত মেঘের ভেলা থেকে থেমে থেমে ঝরবে গুঁড়ি গুঁড়ি বা হালকা বৃষ্টি।
যেখানে যেখানে ভিজতে পারে ঈদের সকাল
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সব বিভাগে অভিন্ন পরিস্থিতি থাকবে না। ভৌগোলিক অবস্থান ও বায়ুপ্রবাহের কারণে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে।
-
ঢাকা বিভাগ: ঈদের প্রধান জামাতসহ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহে সকালে হালকা পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল: রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে সকালের দিকে মেঘের ঘনঘটা বেশি থাকবে এবং বৃষ্টির স্থায়ীত্ব কিছুটা বেশি হতে পারে।
-
সিলেট বিভাগ: পাহাড়ি ঢল ও মেঘের কারণে সিলেটে স্বভাবসুলভভাবেই ঈদের দিন থেমে থেমে কয়েক দফা বৃষ্টি হতে পারে।
-
বাকি তিন বিভাগ: খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা তুলনামূলক কম থাকলেও দু-এক জায়গায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।
কোরবানি ও ঈদগাহের প্রস্তুতিতে বিশেষ সতর্কতা
সকালের এই সম্ভাব্য বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের উন্মুক্ত মাঠের জামাতগুলো। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বিকল্প প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের নির্দেশনা: যদি সকালের দিকে বৃষ্টির বেগ বাড়ে, তবে খোলা মাঠের পরিবর্তে প্রধান জামাতগুলো নিকটস্থ বড় মসজিদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মুসল্লিদেরও বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ যেন বৃষ্টির কারণে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
এক নজরে আবহাওয়ার মূল পূর্বাভাস ও করণীয়
-
বৃষ্টির ধরন: কোথাও কোনো ভারী বা অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা নেই; মূলত থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে।
-
তাপমাত্রা: বৃষ্টির কারণে ঈদের দিন সারা দেশে তীব্র গরমের অনুভূতি কিছুটা কম থাকবে এবং আবহাওয়া তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।
-
প্রয়োজনীয় সতর্কতা: ঈদগাহে যাওয়ার সময় জায়নামাজের পাশাপাশি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা ছাতা সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বাঙালির উৎসবের চিরায়ত নিয়মই হলো সব প্রতিকূলতাকে জয় করে আনন্দের রঙ ছড়ানো। ঈদের সকালে এক পশলা বৃষ্টি হয়তো যাতায়াতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাবে, তবে তা যেন উৎসবের চিরকালীন আন্তরিকতা ও সম্প্রীতিকে ছুঁতে না পারে।





