চীন থেকে সর্বাধুনিক J-10CE যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
চীন থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ২০টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশসীমা রক্ষার সক্ষমতা এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছাবে। বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’ গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ্যে এনেছে। বেইজিংয়ের এই সর্বাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের খবরটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভূ-রাজনীতি ও সামরিক সমীকরণে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল’-এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরেই বিমান বাহিনীর জন্য চতুর্থ সাড়ে চার প্রজন্মের যুদ্ধবিমান খোঁজা হচ্ছিল। চীনের তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের এই ফাইটার জেটটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা সাশ্রয়ী অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা যান হিসেবে পরিচিত। এই জেটগুলোতে রয়েছে উন্নত অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার এবং দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ২০টি যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কেবল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের সামরিক কূটনীতির অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে এই ফাইটার জেটটি ব্যবহার করে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ যদি এই বিমানটি স্কোয়াড্রনে যুক্ত করে, তবে এই অঞ্চলে চীনা সামরিক প্রযুক্তির একচেটিয়া বাজার তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা শিল্পের এমন বিস্তার প্রতিবেশী অন্যান্য পরাশক্তিগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
সামরিক খাতে বাংলাদেশের এই বড় পদক্ষেপের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নানামুখী কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চললেও, আকাশ প্রতিরক্ষায় চীনের ওপর এই বড় ধরনের নির্ভরতা আঞ্চলিক সমীকরণকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। সামরিক পরাশক্তিগুলো এখন ঢাকার এই মেগা চুক্তির গতিপ্রকৃতির দিকে গভীর নজর রাখছে।





