তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি কার্যকর
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গত কয়েক ঘণ্টার অভূতপূর্ব তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই যুদ্ধবিরতির খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের আলোচকরা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাবশালী দেশ ইরানের পরোক্ষ সহায়তায় এই জটিল চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ‘লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে’ সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার স্পষ্ট ঘোষণা ছিল। তবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের আগ্রাসী বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রাখে। তেল আবিবের এই আকস্মিক ও অনড় অবস্থান ওয়াশিংটন-তেহরান ঐতিহাসিক চুক্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। কূটনৈতিক মহলে তখন নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
লেবানন সীমান্তে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত আচমকা তীব্র আকার ধারণ করায় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত একটি উচ্চপর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে দুই দেশ। বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল রুট হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকটি বাতিল হওয়ার ফলে এই অত্যাবশ্যকীয় আলোচনার সময়সূচী নিয়ে বিশ্ব বাজারে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে আজ বিকেল থেকে বন্দুকে শান্ত করার এই চেষ্টা মাঠ পর্যায়ে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ অতীতেও বহুবার এমন সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা স্থায়ী রূপ পায়নি। তবে এবারের চুক্তিতে যেহেতু সরাসরি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক শক্তি ইরান ও কাতার সরাসরি জামিনদার হিসেবে কাজ করছে, তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কিছুটা আশার আলো দেখছেন। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার আগামী দিনগুলোতে কী কৌশল অবলম্বন করে, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।





