ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রথম অধিবেশন শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে নজিরবিহীন ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল সংসদের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংসদকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনটি ছিল নানা কারণেই ঐতিহাসিক। দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবসের এই পথচলা শেষ হলো এক নতুন রাজনৈতিক বার্তার মধ্য দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় স্থিতিশীলতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের সুফল ঘরে তুলতে হলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের পরিস্থিতি যদি আমরা স্থিতিশীল রাখতে না পারি, তবে অর্থনৈতিক বা সামাজিক কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর সেই স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হলো এই সংসদ।”
তিনি মনে করেন, সংসদ যদি প্রাণবন্ত এবং কার্যকর না হয়, তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্য শাখাগুলোতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সংসদকে তিনি একটি রাষ্ট্রের হূৎপিণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এবারের অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সরব উপস্থিতি এবং বিতর্কের গুণগত মান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এই ধারা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে নয়, বরং যুক্তিতর্ক এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় সংসদীয় রাজনীতির বহু চড়াই-উতরাই দেখেছি, তবে এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বিরোধী দলকে সরাসরি অংশীদার হিসেবে সম্বোধন করেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংসদ ব্যর্থ হওয়া মানে কেবল একটি নির্বাচন ব্যর্থ হওয়া নয়, বরং পুরো জাতির স্বপ্নভঙ্গ হওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শেষাংশে জনপ্রতিনিধিদের তাদের মূল দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জনগণ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এই সংসদ গঠন করেছে। তাই ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়নি, বরং এটি রেখে গেছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। প্রধানমন্ত্রীর ‘সংসদকে ব্যর্থ হতে না দেওয়ার’ এই দৃঢ় অবস্থান আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট কতটা শান্ত ও জনবান্ধব রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





