অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয় :বিরোধীদলীয় নেতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ইতিহাস চর্চা কমিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোযোগী হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
দীর্ঘ ৪৩ মিনিটের বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা সংসদের চলমান কার্যধারা এবং সরকারি দলের আলোচনার ধরণ নিয়ে সুতীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ পর্যন্ত যত আলোচনা হয়েছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল ইতিহাস চর্চাকেন্দ্রিক।
বর্তমান সময়ের সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়নের চেয়ে অতীত রোমন্থনেই সংসদীয় সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এক ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অতীতকে স্মরণ রাখা ভালো, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়াও ভালো। কিন্তু ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা নিজেরা নতুন কোনো ইতিহাস তৈরি করতে পারব না।” তার মতে, জাতীয় অগ্রগতির জন্য ইতিহাসকে সম্মানজনক স্থানে রেখে বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক বিতর্কে বারবার অতীতের কাসুন্দি ঘাঁটলে সমসাময়িক জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আড়ালে পড়ে যায়। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বারবার ইতিহাসের দোহাই দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি গঠনমূলক রাজনীতির অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আসুন, ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রেখে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।” তিনি মনে করেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে আসা জনপ্রতিনিধিদের মূল কাজ হওয়া উচিত আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ নিশ্চিত করা, কেবল অতীতের জয়গান বা সমালোচনা করা নয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য চলাকালীন সংসদ ছিল শান্ত। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী সমাপনী বক্তব্যে তিনি যেভাবে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, তা সংসদীয় নথিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। ইতিহাস এবং বর্তমানের মধ্যে যে সূক্ষ্ম দেয়াল থাকা প্রয়োজন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই আহ্বান সংসদীয় সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে বরং সরকারি দলকে উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফোকাস’ ঠিক রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ সংসদের বাকি দিনগুলোতে সরকার পক্ষ ইতিহাস চর্চার বলয় থেকে বেরিয়ে জনকল্যাণমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী আলোচনায় কতটা আগ্রহী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





