এশিয়ায় তীব্র হচ্ছে এলএনজি সংকট, শীতে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা
কাতারের সরবরাহ হ্রাস ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তীব্র এলএনজি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে এশিয়ার বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে এই সরবরাহ ঘাটতি বিশ্ব অর্থনীতি ও বাসাবাড়ির জ্বালানি সুরক্ষায় বড় ধরণের আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মস্কোর পাইপলাইন গ্যাসের পথ থেকে সরে আসে। এর বিকল্প হিসেবে তারা কাতারের মতো বড় এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেই কৌশলগত নির্ভরতাই এখন জ্বালানি খাতের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রণালী কেন্দ্রিক পরিবহনে বাধা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে কাতারের প্রধান প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলো থেকে গ্যাস সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে এশীয় ক্রেতাদের ওপর। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মতো আমদানি নির্ভর দেশগুলো নির্ধারিত চালানের বড় অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে ঘরোয়া বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে টান পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছর শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। এবার সেই পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল রূপ নিয়েছে। শীতের সময় ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ঘরবাড়ি গরম রাখার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস খরচ হয়।
রসদ সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানের সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন শীতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনেক উঁচুতে উঠে যাবে। এশিয়া ও ইউরোপীয় আমদানিকারকরা যখন বাজার থেকে সীমিত পরিমাণের এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করতে প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চড়া দামে গ্যাস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।





