আসছে টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি, ২৫ মে থেকে শুরু
পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে সরকারি ছুটির চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন ঈদের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে উৎসবের আমেজ শুরু হওয়ার আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনিবার ও রোববার) অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এই দীর্ঘ ছুটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। সাধারণত ঈদের সময় রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের যে জনস্রোত তৈরি হয়, তা সামাল দিতে এবং সরকারি কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতেই ছুটির এই বিশেষ বিন্যাস করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছুটির বিন্যাস ও প্রশাসনিক ব্যস্ততা
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহটি উৎসবের আমেজে কাটবে। তবে ২৩ মে শনিবার এবং ২৪ মে রোববার অফিস খোলা থাকায় সরকারি দপ্তরগুলোতে কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ঈদের দীর্ঘ বিরতিতে যাওয়ার আগে জরুরি ফাইল নিষ্পত্তি এবং বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতেই এই দুদিন কর্মদিবস রাখা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে, অন্যদিকে সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রতা রোধ করবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা ছুটির আগে সপ্তাহের শুরুর দিকে অফিস খোলা থাকা মানেই হলো কাজের গতি বাড়িয়ে রাখা। এতে ঈদের পর কাজ শুরু করার সময় খুব বেশি বকেয়া ফাইলের স্তূপ জমবে না। পাশাপাশি, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই দুদিন খোলা থাকায় ব্যবসায়িক লেনদেন ও রেমিট্যান্স উত্তোলনে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে।
নাড়ির টানে ফেরার প্রস্তুতি
টানা সাত দিনের ছুটি মানেই হলো ভ্রমণের সুযোগ। বাস, ট্রেন এবং লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে এখন থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ২৫ মে থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় ২৪ মে অফিস শেষ করেই অধিকাংশ মানুষ বাড়ির পথে রওনা দেবেন। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এবার ছুটির পরিধি বড় হওয়ায় ঢাকা ছাড়ার চাপে ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টানা ছুটির প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন এবং বিপণি বিতানগুলোতে উৎসবের বাড়তি হাওয়া লাগবে। কোরবানির পশুর হাটের কেনাবেচাও এই ছুটির শুরুতেই চূড়ান্ত রূপ নেবে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বিরতিতে কেনাকাটা ও ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের তারল্য প্রবাহ ঘটবে।





